![]()
ইবি রিপোর্ট
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থায়নে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম উন্নত করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি কমিয়ে পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্যও থাকবে বিশেষ সহায়তা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে। ‘দ্য লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকসেলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ কর্মসূচির আওতায় ঋণটি দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয় পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। তবে শিক্ষার মান এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশ সাধারণ লেখা পড়ে অর্থ বুঝতে পারে না। বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী উপযোগী লেখা পড়ার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে রয়েছে। তুলনায় মালয়েশিয়ায় এ হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি তৈরিতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। গত দুই দশকে বাংলাদেশে প্রায় সব শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করেছে। নতুন অর্থায়নের লক্ষ্য হলো শিশুদের শেখার মান বাড়ানো এবং বিদ্যালয়ে তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পথও সুগম হবে।
বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন এবং মাদ্রাসা মিলিয়ে এ পর্যায়ে ২ কোটির বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।
নতুন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা ও গণিতের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ চালু করা হবে। এতে পাঠদানের উপকরণ, নির্ধারিত পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়া দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হবে।
পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য প্রতিকারমূলক শিক্ষা ও অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জেলার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে, সেসব এলাকায় কর্মসূচির কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও কর্মসূচির দলনেতা তাসমিনা রহমান বলেন, ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি। কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না থাকে, সে লক্ষ্যেই কর্মসূচিতে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের নেতৃত্বের মান বাড়ানো, অর্থ বরাদ্দের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে পড়া, লেখা ও গণিত শেখানোর কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়িয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ও শেখার সক্ষমতা উন্নত করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা, কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এ ঋণ দিচ্ছে। সংস্থাটি স্বল্প আয়ের দেশগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান দিয়ে থাকে। ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর, যার মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর পরিশোধে ছাড় থাকবে।