![]()
ইবি রিপোর্ট
স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় দিনাজপুরের হিলিতে আদার বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। বর্তমানে বাজারে আমদানি করা চায়না আদার ওপর নির্ভর করছেন ক্রেতারা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) হিলি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আদার দাম কমতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কোনো দোকানেই দেশি আদা পাওয়া যায়নি। প্রায় সব দোকানে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল আমদানি করা চায়না জাতের আদা।
আগে প্রতি কেজি আদা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতো। গত সপ্তাহে পণ্যটির দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৪০ টাকা।
আদা বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, ‘মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে দেশী আদার সরবরাহ নেই। আমদানীকৃত চায়না জাতের আদা দিয়ে চাহিদা মেটানো হচ্ছে।’
তিনি জানান, পাশাপাশি ভারত থেকেও আদা আমদানি করা হয়েছিল। তবে চায়না আদার মান ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা বেশি। সরবরাহ ভালো থাকায় আগে দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে ছিল।
শাকিল খান আরও বলেন, ‘শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে সাত-আটদিন ধরে পণ্য আমদানি বন্ধ ছিল।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের বাজারে ভারতীয় আদার সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে চাহিদার তুলনায় বাজারে পণ্যটির সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আদার দাম বাড়ার পেছনে আমদানি সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবও রয়েছে। শাকিল খান বলেন, চীনে আদার দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক দিনের মধ্যে আদার সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে। একই সঙ্গে চীনের বাজারে মসলাপণ্যটির দাম কমলেও দেশের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে হিলির বাজারে আদার চাহিদা মেটাতে মূলত চায়না জাতের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা।