![]()
ইবি রিপোর্ট
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা না করে পুলিশ দিয়ে বলপ্রয়োগের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি জানতে চেয়েছেন, দেশে আদৌ কোনো কার্যকর সরকার ব্যবস্থা রয়েছে কি না।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াত আমির।
ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) নারী শিক্ষার্থীদের ওপর গভীর রাতে পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ করেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটা দেখার এই দেশে কেউ কি নেই?’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হলের সিট পুনর্বহাল, আবাসন সংকটের সমাধান এবং প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে ছাত্রীরা কর্মসূচি পালন করছেন। এসব দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা না করে পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষ করে ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেলে পুরুষ পুলিশ সদস্যদের প্রবেশ করে লাঠিচার্জ করার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনার পরিবর্তে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্ট্যাটাসে জামায়াতে ইসলামীর আমির আরও লেখেন, ‘সরকার বলে কি আসলেই কোনো ব্যবস্থা দেশে আছে?’
একই পোস্টে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত পূরণের আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রীদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনার দায় নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলোর সমাধানও জরুরি বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
এ ছাড়া জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর পুরোনো সংস্কৃতি নিয়ে সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি মন্তব্য করেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর সংস্কৃতি আর চলতে পারে না।
শিক্ষার্থীদের আবাসন, হলের আসন পুনর্বহাল এবং প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঘটনার তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য