![]()
ইবি রিপোর্ট
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে দ্রুত মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। শ্রমিক প্রতিনিধির নাম জমা দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই নাম পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে বোর্ড পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শ্রমিক, মালিক ও সরকারপক্ষের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) এবং তৈরি পোশাকবিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (আরএমজি টিসিসি) সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমমন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য মালিকপক্ষ ইতোমধ্যে তাদের প্রতিনিধির নাম দিয়েছে। এখন শ্রমিকপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধির নাম দিতে হবে। এরপর দুই দিনের মধ্যেই বোর্ড পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবকাশ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সহসভাপতি রেজওয়ান সেলিম এবং শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন ও নাজমা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বেতন-ভাতা নিয়ে চলমান অসন্তোষ ও আন্দোলনের প্রসঙ্গে শ্রমমন্ত্রী বলেন, সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা কিংবা অন্য কোনো অশুভ উদ্দেশ্যে কেউ তৎপরতা চালালে তা সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের কেউই মেনে নেবে না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত শ্রমিক নেতৃত্বের বাইরে থেকে যারা উসকানি দিচ্ছেন এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয়কে ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তৃতীয় কোনো পক্ষ শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। কোনো সমস্যা দেখা দিলে কারখানার ভেতরে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষকে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আন্তরিক। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের অবস্থান একই হলে নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তিনি শিল্পকারখানার ক্ষতি না করা এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় না ফেলার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
গাজীপুর ও কালিয়াকৈরে চলমান আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজিএমইএর সহসভাপতি রেজওয়ান সেলিম। পরিস্থিতির দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করছেন। শিল্প পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টাও চলছে।
শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সেই হিসাবে আগামী মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা রয়েছে। আইন অনুযায়ী, বোর্ড গঠনের ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করতে হবে।
এদিকে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ইতোমধ্যে নিম্নতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর করা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা ওই কাঠামো অনুযায়ী মজুরি পেয়ে আসছেন।
পাঠকের মন্তব্য