![]()
ইবি রিপোর্ট
শিবিরকর্মী শামীম হোসেন হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে নাম থাকা পুলিশ পরিদর্শক ইমরান আলম ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১০ অক্টোবর তিনি থানাটিতে যোগ দেন। হত্যা মামলার তদন্ত চলমান থাকার মধ্যেই তাকে এমন দায়িত্ব দেওয়ায় জেলাজুড়ে আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকেলে কালীগঞ্জের বাকুলিয়া গ্রামের নুরুল আমীনের ছেলে ছাত্রশিবির নেতা শামীম হোসেনকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে একই বছরের ১৩ এপ্রিল যশোরের লাউখালী শ্মশানঘাট এলাকা থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শামীমের বাবা ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করেন। পরে ১৭ অক্টোবর অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ঝিনাইদহের সাবেক পুলিশ সুপার ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে। এ ছাড়া কালীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আনোয়ার হোসেন, সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) নিরব হোসেন, আশরাফুল আলম ও ইমরান আলমসহ পুলিশের কয়েকজন সাবেক সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নেতাসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, শামীমকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন এসআই ইমরান আলমের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা জড়িত ছিলেন। তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে শামীমের বাবা নূর ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে হত্যার আসামি ইমরান আলমকে শাস্তির বদলে পুরস্কৃত করা হয়েছে। শুনেছি তাকে মহেশপুর থানার ওসি বানানো হয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচারের চাই। সেই সঙ্গে মহেশপুর থানার ওসি ইমরানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে ওসি ইমরান আলম বলেন, “শামীম হত্যা মামলার আসামি ছিলাম। তবে ইতোমধ্যে বাদী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা (অঙ্গীকারনামা) করে আমিসহ আওয়ামী লীগের সাতজনের নাম প্রত্যাহার করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। পিবিআই দ্রুতই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে তিনি আশা করছেন।
এ বিষয়ে জেলার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জাকারিয়া মিলন বলেন, শুধু হলফনামার মাধ্যমে কোনো মামলার আসামির নাম প্রত্যাহারের আইনগত ভিত্তি নেই। আদালতে মামলা চলমান থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আসামির নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
জাকারিয়া মিলনের মতে, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ইমরান আলমের থানার ওসির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা উচিত নয়।
এদিকে, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, “কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
পাঠকের মন্তব্য