![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রের পানিতে ভাসছে আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি ও নানা ধরনের পণ্য। এসব পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটছেন শত শত ইরানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পানিতে ভাসমান কনটেইনারের আশপাশে নৌকা নিয়ে ঘুরছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ কেউ ঢেউয়ের মধ্যে থেকে বাক্স টেনে তোলার চেষ্টা করছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে ডুবে যায় পণ্যবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইড। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর এর ভেতরে থাকা বিভিন্ন পণ্য সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেগুলো সংগ্রহের আশায় ছোট নৌকা ও উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যেতে শুরু করেন স্থানীয়রা।
ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে ভোরবেলা সাধারণত জেলেদের মাছ ধরতে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। তবে এবার মাছ ধরার পরিবর্তে সমুদ্রে ভেসে থাকা দামি পণ্য সংগ্রহের আশায় নৌকা নিয়ে বের হয়েছেন অনেকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডুবে যাওয়া জাহাজের কনটেইনার থেকে ছড়িয়ে পড়া আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা দলবদ্ধভাবে হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছেন। একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে আইফোন ও সুগন্ধি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁরা রওনা হয়েছেন।
ভিডিওতে পানিতে আংশিক ডুবে থাকা কনটেইনারগুলোর মাঝ দিয়ে কয়েক ডজন নৌকা চলাচল করতে দেখা যায়। নৌকায় থাকা লোকজন ঢেউয়ের মধ্যে থেকে বাক্স টেনে তোলার চেষ্টা করছেন। অন্য একটি দৃশ্যে ছোট একটি নৌকাকে বিশাল আকারের শিপিং কনটেইনার টেনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
জাহাজটির নিবন্ধনকারী দেশ সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজটিতে আগুন লাগার পর সেটি ডুবে যায়। তবে এ ঘটনায় জাহাজে থাকা ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাহাজডুবির কারণ সম্পর্কে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তাদের দাবি, জাহাজটি একটি ‘অননুমোদিত ও বিপজ্জনক’ পথে চলাচল করছিল। একপর্যায়ে এটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে। বিস্ফোরণের পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি ডুবে যায়।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, জাহাজটিতে ২ হাজার ৫০০টির বেশি কনটেইনার ছিল। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার ফলে এসব কনটেইনারে থাকা বিপুল পরিমাণ পণ্য সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজ চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় জাহাজের ওপর আইআরজিসির হামলার ঘটনা বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারির পাশাপাশি পানিতে ভাসমান কনটেইনারের আশপাশ দিয়ে সাবধানে চলাচল করতে স্থানীয় জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর অধিকাংশ ডুবে যায়নি। তবে জিএফএস প্রাইড ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় জাহাজ এবং চলমান যুদ্ধে ডুবে যাওয়া তৃতীয় জাহাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর হামলায় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী জাহাজ কেপ দাও ডুবে যায়।
জাহাজডুবির পর ছড়িয়ে পড়া পণ্য সংগ্রহে স্থানীয়দের তৎপরতা দেখা গেলেও ভাসমান কনটেইনারের আশপাশে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধকবলিত এলাকায় বিস্ফোরক, ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনার ও উত্তাল পানির কারণে সেখানে চলাচল বা পণ্য উদ্ধারের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য