![]()
ইবি রিপোর্ট
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফার্মেসির ভেতরে প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে হত্যা করে ছয় টুকরো করার মামলায় জিতেশ চন্দ্র গোপকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া লাশ গুমের চেষ্টা করার অপরাধে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার যাদব চন্দ্র গোপের ছেলে।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। সেই অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না। এ সময় আসামিকে কারাগারের নির্ধারিত সেলে রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন আদালত।
মামলার সূত্রে জানা যায়, জিতেশ চন্দ্র গোপ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের একটি মার্কেটে ফার্মেসির ব্যবসা করতেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ফার্মেসির ভেতরে প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। হত্যার পর তাঁর মরদেহ ছয় টুকরো করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শেষে আদালত জিতেশ চন্দ্র গোপকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি লাশ গুমের চেষ্টার অপরাধে তাঁকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুটি অপরাধের জন্য পৃথকভাবে অর্থদণ্ডও নির্ধারণ করা হয়েছে।
রায় অনুযায়ী, হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা এবং লাশ গুমের চেষ্টার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে আসামিকে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জগন্নাথপুরের একটি ফার্মেসিতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় মঙ্গলবার আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারিক পর্যায়ের সিদ্ধান্ত আসে। এতে জিতেশ চন্দ্র গোপকে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ গুমের চেষ্টার দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নেওয়া এবং অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আসামিকে নির্ধারিত সেলে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাঠকের মন্তব্য