![]()
ইবি রিপোর্ট
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি কর্মী। নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারলে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চাকরি হারানোর আশঙ্কাও করছেন তাঁরা। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সৌদিগামী ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে সিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৯ হাজার যাত্রী।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিপাকে পড়া কর্মীদের অনেকেই ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে না পারলে তাঁদের ভিসা ও চাকরি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফেনী থেকে আসা মোহাম্মদ রাব্বির সৌদি আরবের দাম্মামে যাওয়ার কথা ছিল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে। সে অনুযায়ী তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জানতে পারেন, তাঁর ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। রাব্বি জানান, তাঁর ভিসার মেয়াদ ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এর মধ্যে সৌদি আরবে যেতে না পারলে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ফেনী থেকে আসা শুক্কুর মিয়া। সকাল ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনা ছিল দাম্মামে গিয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সেই পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।
রাব্বি ও শুক্কুর মিয়ার মতো ছুটি কাটাতে দেশে আসা হাজারো বাংলাদেশি কর্মী একই সমস্যায় পড়েছেন। ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন ও বাতিলের কারণে তাঁদের সৌদি আরবে ফেরার পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চাকরি হারানোর আশঙ্কা। ফলে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদ উল আলম মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সচল রাখা এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হতে দেরি হলেও কর্মীদের ভিসা ও চাকরি নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর এখন পর্যন্ত রিয়াদগামী ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হামলার কারণে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরটির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দরগামী ফ্লাইটের সময়সূচিতেও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। ফলে দেশটিতে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার পাশাপাশি ভিসার বৈধতা ও চাকরি ধরে রাখার বিষয়টিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় দুই দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা গেলে সময়মতো সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারা কর্মীদের ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য