![]()
ইবি রিপোর্ট
প্রবাসী কর্মীদের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের কাজ সম্পন্ন হলে এর আওতায় থাকা কর্মীরা দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে ৩ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য হবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বর্তমানে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে সরকার ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে।
রাজধানীর একটি হোটেলে শরণার্থী ও অভিবাসন আন্দোলনবিষয়ক গবেষণা ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড চূড়ান্ত করে বিতরণ করা হলে কর্মীরা ৩ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য হবেন।’
প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নুর জানান, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার ১১টি খাত চিহ্নিত করেছে। এসব খাতের আওতায় প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া চারটি দেশে বর্তমানে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অনেক কর্মী বিদেশে যাওয়ার জন্য নিয়োগকারী সংস্থাকে অর্থ দেওয়ার পরও সেখানে গিয়ে কাজ পান না। ফলে তাঁদের দেশে ফিরে আসতে হয় এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য সংগ্রাম করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্বও তাঁদের ওপর থেকে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারকে সহায়তা করতে তাঁদের অর্থ পাঠানোর প্রয়োজন হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনার ওপর জোর দেন নুর। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছি।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে দেশে সর্বোচ্চ ৫০০টি নিয়োগকারী সংস্থা টিকে থাকতে পারে। তাঁর মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়োগকারী সংস্থাগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা না গেলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অভিবাসনপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর পাঠ্যক্রম সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান নুর।
সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে তাঁদের যোগ্যতার সামঞ্জস্য তৈরি করা। প্রবাসী কার্ডের সুবিধা, নিয়োগকারী সংস্থার শ্রেণিবিন্যাস এবং প্রশিক্ষণব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে।
পাঠকের মন্তব্য