![]()
ইবি রিপোর্ট
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে। আর সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একই মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অধিশাখার উপসচিবকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থ ও কর্মদক্ষতা ব্যবস্থাপনা অধিশাখার যুগ্মসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সিড ফাইন্যান্সিং বিভাগের পরিচালক। পাঁচ সদস্যের এই কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তদন্তের অংশ হিসেবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবানবন্দি নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও বাইরে কারও সহায়তা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে কমিটিকে। প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে মুদ্রণ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সহায়তাকারীদের ভূমিকা অনুসন্ধান করা হবে।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২৪২টি পদের জন্য এ নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
তদন্ত কমিটির কাজ হবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা। এ জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবানবন্দি নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
পাঠকের মন্তব্য