
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সরিয়ে দিয়েছে সরকার। অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলেও এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন—অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এমডি মো. জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের এমডি মো. কামরুজ্জামান খান।
উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকার সুপারিশ ও সম্মতি দিয়েছে।
কেন সরানো হলো, জানানো হয়নি
অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মো. আনোয়ারুল ইসলামের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী বিধিসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ করতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংকের এমডিদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিল করা হয়েছে।
তবে তিনটি প্রজ্ঞাপনেই চুক্তি বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, কর্মদক্ষতার ঘাটতি কিংবা কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের সরানো হয়েছে—এমন তথ্যও দেওয়া হয়নি।
এ কারণে ব্যাংক খাতে নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নির্ধারিত মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার পরও কেন একই দিনে তিন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই তিন ব্যাংকের এমডিদের সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদেও পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
একসঙ্গে তিনটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়টি তাই আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ এটি কেবল তিনজন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিলের ঘটনা নয়; একই সঙ্গে দেশের তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত।
সামনে নতুন এমডি নিয়োগ
সরকারের সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ চুক্তিপত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী বিধিসম্মত কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি তিন ব্যাংকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
তবে নতুন এমডি নিয়োগের সময়সীমা, প্রক্রিয়া এবং অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনা হবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অগ্রণী ব্যাংক, বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংকের এমডিদের একযোগে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাই সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকছে ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের।
পাঠকের মন্তব্য