
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তার কাছে সবসময় প্রিয়। দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাশেদ খাঁন দেশমাতৃকার প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি-কওমি শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা
রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলাটিতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এনসিপির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মধ্যরাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীরা।
শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদ্রাসা থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তারা।
একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
বিক্ষোভের পর শনিবার একই স্থানে ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার বিকেল ৩টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেল ৪টায় একই মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
একই স্থান ও কাছাকাছি সময়ে দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রাশেদ খানের বক্তব্যে নতুন আলোচনা
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে রাশেদ খাঁনের বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
তার বক্তব্যে কওমি শিক্ষার্থীদের গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাদের দায়িত্বশীল ও সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের কর্মসূচিকে ঘিরে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার দিকেও নজর রয়েছে। একই সঙ্গে দুই পক্ষ তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি কীভাবে পালন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মন্তব্য