
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এরপর তিনি শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন। নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায়ও সংসদে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
এবারের অধিবেশনটি স্বল্পমেয়াদি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ২৭ আগস্ট তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। এর আগে চলতি সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশন গত ১৫ জুলাই শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী, একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে স্বল্পমেয়াদি হলেও এবারের অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনও এবারের অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করতে স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রণালয় ও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর সংসদীয় নজরদারি জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন ও পাসের সম্ভাবনা রয়েছে। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার নিয়েও আলোচনা হতে পারে। জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনীয় আইন ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনায় রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটও সংসদে গুরুত্ব পেতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ পরিস্থিতি, বিভিন্ন বিদ্যুৎ চুক্তি এবং এর ফলে রাষ্ট্রের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন তুলতে পারেন। বিশেষ করে আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে চাপ তৈরি করেছে, সেটিও সংসদে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে সংসদ সদস্যরা আলোচনা করতে পারেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ও আলোচনা হতে পারে।
এবারের অধিবেশনে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের সমালোচনা, জনগণের সমস্যা তুলে ধরা এবং সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে বিরোধী দলের সামনে।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরুর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। সাধারণত বছরের এই সময়ে অনুষ্ঠিত অধিবেশন খুব দীর্ঘ হয় না এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন স্বল্প সময়ের হলেও এর কার্যক্রমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে। আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটি গঠন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা এবং সংবিধান সংস্কার—সব মিলিয়ে এবারের অধিবেশন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য