![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি দাবি করেছেন, স্বাধীনতার সময় নরেন্দ্র মোদির মতো প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভারত অখণ্ড থাকত। একই সঙ্গে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতৃত্ব থাকলেও ভারতকে ভাগ করা সম্ভব হতো না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) লখনউয়ে দেশভাগ স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব মন্তব্য করেন বিজেপির এই নেতা। দেশভাগ ও এর পরবর্তী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য কংগ্রেসকে ‘প্রকৃত অর্থে দায়ী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, স্বাধীনতার সময় নরেন্দ্র মোদির মতো প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভারত অখণ্ড থাকত। আর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো কোনো নেতা প্রধানমন্ত্রী হলে কেউ ভারতকে খণ্ডবিখণ্ড করতে পারত না। তার ভাষ্য, কংগ্রেস নেতাদের ‘কাপুরুষতার’ কারণে ভারতকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় বিভিন্ন অঞ্চল পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়েও বক্তব্য দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, সিন্ধু ছিল হিন্দু ও সিন্ধি-অধ্যুষিত এলাকা; অথচ সেটি পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। একইভাবে পাঞ্জাবের একটি বড় অংশও পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলা নিয়েও বিতর্কিত দাবি করেন যোগী। তিনি বলেন, বাংলা ছিল বাঙালি-অধ্যুষিত এলাকা এবং সেখানকার ‘সমস্ত হিন্দু গ্রাম’ জোর করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতার প্রতি কংগ্রেসের অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দেশভাগকে ‘মানবতার অন্ধকারতম অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ১৯৪৭ সালের আগে যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, কংগ্রেসের তৎকালীন নেতৃত্ব জনগণের আস্থার প্রতিদান বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে দিয়েছে।
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার প্রসঙ্গও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। এ ধরনের ঘটনায় কংগ্রেস নীরব থেকেছে বলে অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, ভোটব্যাংক হারানোর আশঙ্কায় দলটি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে সরব হয়নি।
যোগী আরও বলেন, ভারত একসময় বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল ছিল। তার দাবি, ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবদান প্রায় ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ ছিল। দেশের বিপুল সম্পদের কারণেই বিদেশি আক্রমণকারীরা বারবার ভারতমুখী হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তার মতে, বর্ণ, অঞ্চল ও ভাষার ভিত্তিতে ভারতীয় সমাজে বিভাজন তৈরি হওয়ায় দেশটি দীর্ঘ সময় পরাধীনতার শিকার হয়েছে। দেশভাগের সেই ভুলের প্রভাব ভারতকে এখনো বহন করতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, মাওবাদসহ বিভিন্ন চরমপন্থার সঙ্গে দেশভাগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন যোগী। তার ভাষ্য, ১৯৪৭ সালের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাশুল ভারতকে এখনো বিভিন্নভাবে দিতে হচ্ছে।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানেরও সমালোচনা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
সিএএ প্রসঙ্গে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আসা নির্দিষ্ট কয়েকটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এই আইন করা হয়েছে। তার দাবি, আইনটিতে মুসলিম, কংগ্রেস বা সমাজবাদী পার্টির কারও জমি কেড়ে নেওয়ার কোনো বিধান নেই।
তারপরও সিএএর বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। দেশভাগের ইতিহাস এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে যোগসূত্র তুলে ধরে নিজের বক্তব্যে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
পাঠকের মন্তব্য