![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বিএনপির
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। একই প্রার্থীর জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ভুল বা বাদ পড়ার ঘটনা এড়াতেই একই প্রার্থীর জন্য দুটি ফরম নেওয়া হয়েছে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, একজন প্রার্থীর জন্য ফরম নেওয়া হয়েছে। তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল বা সমস্যা হলে যাতে জটিলতা তৈরি না হয়, সে জন্য দুটি ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরম দুটি কোনো ব্যক্তির নামে নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
এর আগে গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট।
একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অলি আহমাদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। রোববার জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমাদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ফলে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
১৯৯১ সালের পর এটিই হতে পারে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেছিলেন। এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পাবেন।
একই কারণে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমাদকে প্রার্থী করা হলেও নির্বাচনের ফলাফলে সংসদে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সংসদে বিশেষ বৈঠক হতে পারে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান না থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে এক দিনের জন্য সংসদের বৈঠক আহ্বান করবেন।
একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে নির্ধারিত ভোটের সাত দিন আগে এই বৈঠক আহ্বান করা হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে আহ্বান করা ওই বৈঠক সংসদের নিয়মিত অধিবেশন হিসেবে গণ্য হবে না।
এর আগে ২০২৩ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একই প্রার্থীর জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল। মো. সাহাবুদ্দিনের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এর একটি বৈধ ঘোষণার পর অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর জন্য একাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা আসায় নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা এবং ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাইয়ের পরই প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।
পাঠকের মন্তব্য