![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে, জাদুঘর হবে জনগণের ইতিহাসের স্মারক: প্রধানমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক ইতিহাস তুলে ধরার স্থান হবে না; বরং এটি হবে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মারক।
বুধবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। তাই জুলাই আন্দোলনে এবং বিগত ১৭ বছরে যারা শহীদ হয়েছেন কিংবা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতিটি ঘটনার বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। সরকারও সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে, যাতে প্রতিটি অপরাধের বিচার জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
শহীদদের স্মরণে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনসহ গত ১৭ বছরে যারা প্রাণ দিয়েছেন এবং গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের স্মরণে নিজ নিজ এলাকায় একটি করে শিক্ষা বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘর কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির একক কৃতিত্ব প্রচারের স্থান নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের ফলেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে এবং সেই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরাই এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ আশা করে জাদুঘরটি এমন একটি নিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চার কেন্দ্র হবে, যেখানে কোনো একক রাজনৈতিক ভাষ্য নয়, বরং গণআন্দোলনের প্রকৃত চিত্র সংরক্ষিত থাকবে।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও তুলনা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের মতোই ২০২৪ সালের আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের অবদানও জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
সরকারের এই ঘোষণা বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ, আইনের শাসন সুসংহত করা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস সংরক্ষণ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশ এবং শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
পাঠকের মন্তব্য