![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ক্যান্সার রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার। হাসপাতালটির নিজস্ব রোগী-সহায়ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘লুনা’ সোমবার (৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন (Go-Live) করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় সার্বক্ষণিক এই ডিজিটাল সেবা পাওয়া যাবে luna.labaidai.com.bd এবং labaidcancer.com ওয়েবসাইটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘লুনা’ রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রোফাইল, চেম্বারের সময়সূচি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের অনুরোধ করার সুবিধা দেবে। এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা, হেলথ প্যাকেজ, হোম স্যাম্পল কালেকশন এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ প্রয়োজনীয় তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানাবে এই এআই সহকারী।
বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে একটি বডি-ম্যাপ (Body Map) ফিচার। যেসব রোগী নিজের শারীরিক সমস্যার বর্ণনা দিতে অসুবিধা অনুভব করেন, তারা শরীরের যেখানেই ব্যথা বা সমস্যা রয়েছে, সেখানে স্পর্শ করলেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তথ্য পেয়ে যাবেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কাজ করা এই ফিচারটি মানবদেহের ৪২টি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শনাক্ত করতে সক্ষম।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ‘লুনা’ কোনো চিকিৎসা পরামর্শ বা জরুরি চিকিৎসা নির্দেশনা প্রদান করে না। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের সরাসরি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই কয়েক সপ্তাহ সীমিত পরিসরে চালু ছিল এই সেবা। সেই সময়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাত্র দুই সপ্তাহে ১৫ হাজার ৩২০ জন ব্যবহারকারী ‘লুনা’র সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে ২৯৭ জন সরাসরি কথোপকথনে অংশ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৫৩টি প্রশ্ন করেছেন। অর্থাৎ একজন ব্যবহারকারী গড়ে প্রায় আটটি প্রশ্ন করেছেন, যা রোগীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
একই সময়ে ‘লুনা’র মাধ্যমে ৪৪টি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিটি অনুরোধই হাসপাতালের সিস্টেমে সফলভাবে নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার ১০০ জন ব্যবহারকারী একাধিকবার ফিরে এসে এই এআই সহকারীর সেবা নিয়েছেন, যা রোগীদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, ‘লুনা’র সঙ্গে হওয়া মোট কথোপকথনের প্রায় ৪৫ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে সন্ধ্যা ও গভীর রাতে, যখন সাধারণত হাসপাতালের তথ্যসেবা ডেস্কে জনবল থাকে না। এছাড়া ৮৩ শতাংশ ব্যবহারকারী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই সেবা গ্রহণ করেছেন, যা মোবাইলভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ‘লুনা’র উদ্ভাবক সাকিফ শামীম বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন রোগী ও তাঁর পরিবারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় দ্রুত সঠিক তথ্য এবং নির্ভরযোগ্য সহায়তা। সেই প্রয়োজন থেকেই ‘লুনা’ তৈরি করা হয়েছে, যাতে দিন-রাত যেকোনো সময় রোগীরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক সাড়া প্রমাণ করেছে যে, মানবিক সেবার সঙ্গে প্রযুক্তির কার্যকর সমন্বয় স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।
ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘লুনা’র যাত্রা কেবল শুরু। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ফিচার যুক্ত করে ক্যান্সার রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য