![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে গঠিত এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল (Agriculture Industry Skills Council–AISC)-এর সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব সাকিফ শামীম।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (NSDA) অধীন পরিচালিত শিল্প দক্ষতা পরিষদগুলো দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করে। এরই অংশ হিসেবে এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য এবং সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, দক্ষতার মান নির্ধারণ এবং কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর্পোরেট খাতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন সাকিফ শামীম। স্বাস্থ্যসেবা, কৌশলগত ব্যবসা উন্নয়ন, কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, নীতি-উদ্যোগ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত। দেশের স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও সেবাখাতের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি আধুনিক ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারে সাকিফ শামীমের অভিজ্ঞতা এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। পাশাপাশি তিনি সমসাময়িক অর্থনীতি, নীতি ও উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে একজন সুপরিচিত চিন্তাবিদ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন।
সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর সাকিফ শামীম বলেন, “বাংলাদেশের কৃষি শুধু খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। শিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ সংস্থা এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে আধুনিক কৃষি, কৃষি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং এগ্রি-বিজনেস খাতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তার মতে, বাংলাদেশের কৃষি খাতে বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এদের দক্ষ করে তুলতে পারলে কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানির নতুন সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষি, কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, ফুড প্রসেসিং এবং এগ্রি-সাপ্লাই চেইন খাতে দক্ষ কর্মীর যে চাহিদা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স আয়—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাকিফ শামীমের দূরদর্শী নেতৃত্ব, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বহুমাত্রিক কর্পোরেট অভিজ্ঞতা এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে দেশের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
পাঠকের মন্তব্য