ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরাকে ইরানপন্থী গোষ্ঠীর ওপর সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা, নিহত ৮; উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরাকে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থানে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার পরিচালিত এই অভিযানে অন্তত আটজন নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর সঙ্গে সমন্বয় করেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল। সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে দেশের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)। সংগঠনটির দাবি, এই সামরিক অভিযান ইরাকের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
এদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফরের আগে তিনি সৌদি আরবে কথিত ড্রোন হামলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরাকি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরাকের ভূখণ্ড কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ বা প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার হতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
অপরদিকে, ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক সৌদি আরবের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার অভিযোগ “সম্পূর্ণ বানোয়াট” এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
সংগঠনটি আরও সতর্ক করে বলেছে, সৌদি আরব যদি ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো “বোকামিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ” নেয়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই যৌথ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরান, সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন এই সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রক্সি সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পাঠকের মন্তব্য