![]()
সাকিফ শামীম
ক্রীড়া বর্তমানে শুধু বিনোদন বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়; এটি বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক শিল্পে পরিণত হয়েছে। ফিফা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক, আইপিএল, এনবিএ এবং ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল লিগের মতো আয়োজন সম্প্রচারস্বত্ব, স্পন্সরশিপ, পর্যটন, হোটেল, পরিবহন, প্রযুক্তি ও মার্চেন্ডাইজিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করছে এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।
বাংলাদেশেও ক্রীড়াকে একই দৃষ্টিভঙ্গিতে শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ব্যবহারকারী এবং ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের কাজে লাগিয়ে ক্রীড়াকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে রূপান্তর করা সম্ভব। বিপিএল, ঢাকা ম্যারাথন কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের মতো আয়োজনগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পনা করা হলে সম্প্রচার, পর্যটন, বিজ্ঞাপন, ক্রীড়া প্রযুক্তি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন সেবাখাতে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একটি আধুনিক ক্রীড়া শিল্প শুধু খেলোয়াড় নয়; কোচ, ফিজিওথেরাপিস্ট, স্পোর্টস সায়েন্টিস্ট, পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট, স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট, কনটেন্ট নির্মাতা, ডিজিটাল মার্কেটার, সম্প্রচার বিশেষজ্ঞ, ইভেন্ট ম্যানেজারসহ বহু পেশাজীবীর জন্যও কর্মক্ষেত্র তৈরি করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং স্পোর্টস টেকনোলজির প্রসারের ফলে এসব পেশার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই স্পোর্টস একাডেমি, গবেষণা কেন্দ্র, স্পোর্টস সায়েন্স ল্যাব, কোচিং ইনস্টিটিউট এবং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।
একই সঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি বিনিয়োগ, করপোরেট স্পন্সরশিপ, আঞ্চলিক লিগ, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো এবং সংবাদমাধ্যমে ক্রীড়া শিল্প, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক ইতিবাচক প্রচার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট, স্পোর্টস বিজনেস, স্পোর্টস অ্যানালিটিক্স, স্পোর্টস মিডিয়া ও স্পোর্টস সায়েন্স বিষয়ে আধুনিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।
সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে ক্রীড়া শিল্প বাংলাদেশের কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য