![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনই কোনো নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ১২টি প্রতিষ্ঠানের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের নিয়ে এ শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই এখনই কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নতুন চেয়ারম্যানরা সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করছেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাদের সম্পৃক্ত করছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে বিএনপি সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই পদত্যাগ করেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ও দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রীও জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার মেয়াদকালেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে একটি ব্যতিক্রমী নজিরও স্থাপন করেন।