ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশকে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনি, নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলা। তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী অর্থনৈতিক রূপান্তরের রূপরেখা বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন প্রণোদনাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সরকার প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, আধুনিক নীতিমালা এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এটি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্পে বৈচিত্র্য আনা, প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদার, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ, পুঁজিবাজার উন্নয়ন এবং বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সরকারি সেবাকে ডিজিটাল করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে বন্দর উন্নয়ন, লজিস্টিকস অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দ্রুত সম্প্রসারিত অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না; বরং সরকারের প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রধানমন্ত্রী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশ শুধু বিনিয়োগের সুযোগই দিচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বেরও আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি সবাইকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
এফআইসিসিআই আয়োজিত এ সম্মেলনে সরকারের নীতিনির্ধারক, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয় এবং এফআইসিসিআই এফডিআই রিপোর্ট ২০২৬ প্রকাশ করা হয়।
পাঠকের মন্তব্য