ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আপাতত সরাসরি যুদ্ধে জড়াচ্ছে না ইসরায়েল। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনজন ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল আবিব সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ইসরায়েলকে সামরিকভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান, তাহলে দেশটির বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা বৈঠকে যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি মূল্যায়নে সোমবার রাতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বৈঠকে সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া, ইরানের সম্ভাব্য হামলার জবাবে পাল্টা অভিযান পরিচালনা কিংবা ভবিষ্যতের বড় ধরনের হুমকি প্রতিরোধে আগাম সামরিক হামলা চালানোর বিষয়।
সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ
রোববার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির বলেছেন, যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
তার ভাষায়, ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যে কোনো হুমকির জবাব সর্বোচ্চ শক্তি দিয়েই দেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিকেই অনুকূল মনে করছে তেল আবিব
ইসরায়েলি একটি সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত অব্যাহত থাকায় তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক সমঝোতার পথও কঠিন হয়ে পড়ছে।
সূত্রটির মতে, এই অবস্থায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক শক্তি ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে, যা ইসরায়েলের জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী স্মোৎরিচের মন্তব্য
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোৎরিচ বলেছেন, এই মুহূর্তে চলমান সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হওয়ার কোনো আগ্রহ ইসরায়েলের নেই।
একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। তার মতে, সামরিক অভিযানের চেয়ে অর্থনৈতিক সংকটই ইরানকে বেশি চাপে ফেলতে পারে।
ইরানের অর্থনীতি নিয়ে ইসরায়েলের মূল্যায়ন
আরেকটি সূত্রের দাবি, সম্প্রতি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে দেশটির পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
ইসরায়েলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য বাড়তে থাকলে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তা দেশটির সরকারকে দুর্বল করবে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইসরায়েল
একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে হামলার পর সংঘাতের বিস্তার ঘটলেও পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল।
তিনি বলেন, সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, সেটির ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
যুদ্ধে নামলে লক্ষ্য হতে পারে পারমাণবিক স্থাপনা
ইসরায়েলের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত দেশটি যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তবে এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের চেষ্টা
সূত্রগুলো জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাবনা রয়েছে তার। সেই সফরের সুযোগে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে ইসরায়েলি সূত্রগুলোর ধারণা।
পাঠকের মন্তব্য