![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের আটক
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) লোক কল্যাণ মার্গ এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও রয়েছেন। এছাড়া কর্ণাটক ও কেরালার মুখ্যমন্ত্রীসহ কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারাও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের দিন পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অভিযানের প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন। পরে তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় রাহুল গান্ধীকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি মাটিতে শুয়ে প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশ ভ্যানে তোলার পরও তিনি চলন্ত গাড়ির দরজায় ঝুলে থেকে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।
এর আগে সকালে কংগ্রেস ও বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করেন। বিক্ষোভে তারা শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
কংগ্রেস নেতাদের দাবি, গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বর্বরতা চালানো হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই তারা আজকের কর্মসূচি পালন করেছেন।
বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন এবং কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তবে তাদের আলোচনার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতির প্রতি তরুণদের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো কোনো দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি।
পরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা ‘অ-ভারতীয়’ আচরণ। তিনি সংসদে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে একই দিনে দিল্লি হাইকোর্ট আন্দোলনকারী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। গত ২৮ জুন থেকে অনশনরত ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আদালত তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দল ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ।
পাঠকের মন্তব্য