![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস করপস (আইআরজিসি)। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে পরিচালিত হামলায় ঘাঁটির একাধিক তেল সংরক্ষণাগার ও অস্ত্রাগারে আগুন লাগে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রথম ধাপের সামরিক অভিযান।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকেও কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ নিজেদের ট্র্যাকিং বা অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে অবৈধভাবে চলাচল করছিল। এতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
ইরানের দাবি, এই পরিস্থিতিতে তাদের নৌবাহিনী জাহাজ দুটিকে মাঝসমুদ্রে থামিয়ে আটক করার অভিযান চালায়। তবে এই অভিযানের পরই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
আইআরজিসির মতে, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বানও জোরালো হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য