![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সব পর্যায়ে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার সরকার সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকারও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করছে। তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর UNHCR, UN Women এবং World Food Programme–এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরও আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সরকার মনে করে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বৃদ্ধি, রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভেরিফিকেশন), মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ এবং প্রয়োজনীয় আস্থা তৈরির উদ্যোগ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ ও অন্যান্য অংশীজনকে নিয়ে গঠিত ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, বাস্তবসম্মত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য