![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
গ্রামে বিদ্যুৎ সংকটে অস্বস্তিতে সরকারদলীয় এমপিরাও, সংসদে সমাধানের আশ্বাস বিদ্যুৎমন্ত্রীর
দেশের গ্রামাঞ্চলে চলমান বিদ্যুৎ সংকট সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদেরও অস্বস্তিতে ফেলছে। স্থানীয় জনগণের বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ এখন সবচেয়ে আলোচিত জনদুর্ভোগের বিষয়গুলোর একটি। তিনি বলেন, “গ্রামে-গঞ্জে বিদ্যুৎ এখন বড় ইস্যু। আমরা যখন গ্রামে যাই, এই ইস্যু আমাদের বিব্রত করে, অস্বস্তিতে ফেলে।”
নিজ নির্বাচনি এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৩ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৭ মেগাওয়াট। অন্যদিকে অফ-পিক আওয়ারে ৩৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট। ফলে ওই এলাকায় গড়ে ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
তিনি জানতে চান, বিদ্যুতের এই ঘাটতি কবে দূর হবে এবং গ্রাহকরা কবে থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।
জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে সরকার নতুন ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী জানান, বড় আকারের ট্রান্সমিশন টাওয়ার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘদিন আইনি জটিলতা থাকায় প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। বিশেষ করে জয়দেবপুর-শম্ভুগঞ্জ ট্রান্সমিশন লাইনের জন্য ভালুকা এলাকায় দায়ের করা একটি মামলার কারণে কাজ এগোতে পারেনি।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মামলায় জয়লাভ করেছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ শেষ হলে ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ জামালপুর ও আশপাশের জেলার বিদ্যুৎ সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং গ্রাহকরা আরও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবেন।
পাঠকের মন্তব্য