![]()
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন গবেষকরা। তারা এমন একটি অভিনব ‘স্মার্ট ড্রাগ’ বা বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ওষুধ তৈরি করেছেন, যা ক্যানসার কোষের ‘অদৃশ্যতার আবরণ’ সরিয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সামনে সেগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়। প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, পরীক্ষামূলক এই ট্যাবলেট বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ ছয় ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইমিউনোথেরাপি ক্যানসার চিকিৎসায় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসার কোষ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে নিজেদের আড়াল করে ফেলে। ফলে চিকিৎসার কার্যকারিতা কমে যায়। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের গবেষকদের উদ্ভাবিত নতুন এই ওষুধ সেই সমস্যারই সমাধান করার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালিত যৌথ ফেজ-১ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে জরায়ুমুখ, মূত্রথলি, লিভার, অন্ত্র, ফুসফুস এবং মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ৮৩ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের ‘GRWD5769’ নামের পরীক্ষামূলক ওষুধের পাশাপাশি প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির ওষুধ ‘সেমিপ্লিম্যাব’ দেওয়া হয়। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া সব রোগীর ক্ষেত্রেই এর আগে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছিল।
গবেষণায় দেখা যায়, ৮৩ জনের মধ্যে ২৬ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের টিউমারের আকার কমেছে অন্তত ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি। এছাড়া অন্ত্রের ক্যানসারে আক্রান্ত ৫১ শতাংশ এবং ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ৫৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অন্তত ছয় মাস রোগের অগ্রগতি থামিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে এই চিকিৎসা।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যানসার কোষ শরীরের ERAP1 নামের একটি এনজাইমকে নিয়ন্ত্রণ করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার টি-সেল থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখে। নতুন এই ওষুধ এনজাইমটিকে নিষ্ক্রিয় করে ক্যানসার কোষের সেই অদৃশ্যতার আবরণ সরিয়ে দেয়। ফলে টি-সেল সহজেই ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ চালাতে পারে।
শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্যানসার সম্মেলন ASCO-তে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন ম্যানচেস্টারের দ্য ক্রিস্টি ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফ্যাসিলিটির মেডিকেল ডিরেক্টর অধ্যাপক ফিওনা থিসলথওয়েট। তিনি বলেন, ঘরে বসে খাওয়ার উপযোগী একটি ট্যাবলেটের এমন কার্যকারিতা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি পদ্ধতিতে কাজ করে, যা ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা আরও বাড়াতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের (ফেজ-১) গবেষণা। সাধারণ রোগীদের জন্য ওষুধটি ব্যবহারের আগে এর নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে।
পাঠকের মন্তব্য