একাত্তরের চেতনাকে বিক্রি করা হয়েছে, জুলাই চেতনাকে হতে দেব না: হুইপ নিজান
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, একাত্তরের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে একটি দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার বা বিক্রি হতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পাটারিরহাট ইউনিয়নে জুলাই যোদ্ধা শহিদ মাজহারুল ইসলাম (মাসরুর) সড়কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ নিজান বলেন, “একাত্তরের চেতনাকে বিক্রি করে একটি দল বহুদিন খেয়ে গেছে। আমরা কিন্তু ওই দলের মতো জুলাই চেতনাকে বিক্রি হতে দেব না।”
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু তরুণ জীবন উৎসর্গ করেছেন। আবার অনেকেই চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেও দেশকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছেন। রাষ্ট্র তাদের এই আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না।
তার ভাষায়, “জুলাই যুদ্ধে যারা শহিদ হয়েছেন কিংবা আহত হয়েছেন, তাদের কাছে এ রাষ্ট্র ঋণী।”
হুইপ আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, “হাসিনা সরকারের মতো স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে আগামী দিনে কেউ আর বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না; এটা জুলাই যোদ্ধারাই শিখিয়ে দিয়েছেন।”
আগামীর বাংলাদেশকে জুলাই যোদ্ধাদের আদর্শে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাট বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন হুইপ নিজান। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সফল হতে হলে তরুণ সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্ম আরও এগিয়ে এলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।”
জুলাই যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়েও আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের পরিবার রাষ্ট্রের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাহাত উজ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন, কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, প্রেসক্লাব সভাপতি ইউছুফ আলী মিঠু এবং জুলাই যোদ্ধা জুনাইদ হোসেন ও মাওলানা আব্বাস হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
পাঠকের মন্তব্য