যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের, ‘তেল আবিবে পোষ্যদের মুখ বন্ধ রাখতে হবে’
ই-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি দেওয়া থেকে বিরত রাখা।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি দাবি করেন, ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত।
তিনি লেখেন, ওই সমঝোতার আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেল আবিবে তার ‘পোষ্যদের’ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আরাগচি আরও বলেন, ‘যদি তারা (ইসরায়েল) তাদের প্রভুর নির্দেশ না মানে, তাহলে ইরানই তাদের শিক্ষা দেবে। আমাদের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।’
কাৎজের মন্তব্যের জবাব
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য আসে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর।
গত সোমবার কাৎজ দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু’ এবং ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জন করা গেলে সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো সমাধান।
চুক্তিতে নেই ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর বিষয়ে সম্মতি থাকলেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেরুজালেম এই চুক্তির পক্ষ নয়।
তাদের অবস্থান হলো, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধান ও যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনড় তেহরান
এদিকে দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনার আগে ইরানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ এবং উপসাগরে প্রবেশ বা বের হওয়া জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করতেই চায় তেহরান।
সূত্রগুলোর দাবি, প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করেও এই অবস্থান বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত ইরান।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার আওতায় ইরান ৬০ দিনের জন্য ফি ছাড়া জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়। তবে তাদের দাবি, কোন জাহাজ চলবে এবং কোন রুট ব্যবহার করবে—সেই নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে।
ইরানি সূত্রগুলোর ভাষ্য, এই নিয়ন্ত্রণের আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হবে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার মেয়াদ বৃদ্ধি না হলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় শুরু করতে পারে ইরান। তবে ফি-এর পরিমাণ বা বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পাঠকের মন্তব্য