\
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে আগামীকাল শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি উপজেলা/থানা, জেলা এবং জাতীয়—এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পর্যায়ের বিজয়ীদের জন্য থাকছে সরকারি পুরস্কার ও সনদ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এই আয়োজন করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা এবং বাস্তবমুখী উদ্ভাবনী ধারণার বিকাশ ঘটানো। একই সঙ্গে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তাদের গড়ে তোলাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের প্রোগ্রাম অফিসার তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, প্রথম ধাপে শুক্রবার দেশের ৫২০টি উপজেলা ও মহানগর শিক্ষা থানায় মেলার আদলে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরাও অংশ নেবেন।
এ প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় ৩০ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক দল অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় ইতোমধ্যে লক্ষাধিক দল নিবন্ধন করেছে। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক থাকবেন।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা বা থানা পর্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলো পুরস্কৃত হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত দলগুলো ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। পরে জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে বাছাই করা হবে সেরা ১০০টি দল।
আগামী ২৮ জুন রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে দলগুলো তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে। সেখান থেকে সেরা ১০টি দল নির্বাচিত হবে।
জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী প্রতিটি শিক্ষার্থী পাবেন ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র। আর বিজয়ী শিক্ষকদের দেওয়া হবে ৩০ হাজার টাকা এবং সনদপত্র।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পথও উন্মুক্ত হবে। তাঁর মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ধারণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে একই মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাঠকের মন্তব্য