![]()
উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের সমাধানে আবারও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই উদ্যোগে অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি টিকে থাকার নতুন আশা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ওই কর্মকর্তা জানান, ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় থাকা সব বিষয় নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আপাতত উভয় পক্ষ সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এ খবর প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, আগামী মঙ্গলবার কাতারে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের ছোড়া একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়েই ১৭ জুন কার্যকর হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ একে অপরের বিরুদ্ধে তোলে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। হামলার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘিত হলে ইরানের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই অভিযানে গোষ্ঠীটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন শনিবারও একই ধরনের হামলা চালায় ইসরায়েল। সেটি ছিল লেবাননের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম সামরিক অভিযান। অন্যদিকে, ইরান বলেছে, বৃহত্তর শান্তি চুক্তি কার্যকর রাখতে হলে লেবাননের সংঘর্ষও বন্ধ করতে হবে।
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি জ্বালানি ট্যাংকারে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
হামলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছিলেন, “এমন একটি সময় আসতে পারে যখন আমাদের আর সংযত থাকা সম্ভব হবে না এবং আমরা সামরিকভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হব, যা আমরা অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি।”
আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, “যদি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”
উল্লেখ্য, ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটানো। ওই সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছিল।
পাঠকের মন্তব্য