![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন। রোববার থেকে বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ায় ভ্রমণপ্রত্যাশী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যেতে ইচ্ছুক মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ভারত সীমিত পরিসরে শুধু মেডিকেল ভিসা প্রদান করলেও ট্যুরিস্ট ভিসাসহ স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এতে শুধু ভ্রমণ নয়, তৃতীয় কোনো দেশের ভিসা আবেদনের জন্য ভারত হয়ে যাতায়াত করতে চাওয়া অনেক বাংলাদেশিকেও নানা ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল।
ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টি এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের আগেই ভারত সরকার বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা কূটনৈতিক অস্বস্তিরও সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
এমন প্রেক্ষাপটে গত ২৫ জুন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই এই ঘোষণা আসায় বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নতুন হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পরিবেশ আরও অনুকূল হতে পারে।
তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও সীমান্তে পুশ-ইন, তিস্তা ও গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনসহ দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর সমাধানই ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের প্রকৃত অগ্রগতি নির্ধারণ করবে।
দীর্ঘ বিরতির পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন এবং পারিবারিক প্রয়োজনে ভারতে যেতে আগ্রহী হাজারো বাংলাদেশির দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলেও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
পাঠকের মন্তব্য