![]()
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক:
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক এবং বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের কোনো সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী চীনা বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, নীতিগত সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিভিন্ন কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জবাবে আলোইস জভিংগি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ আরও বাড়াবে।
এ সময় বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
উল্লেখ্য, এবারের ডব্লিউইএফ সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ সরকারি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করছেন। বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য