![]()
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ের পর মাঠ ছাড়ার সময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মুখে ছিল আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা—“আমি ফিরে এসেছি, আমি ফিরে এসেছি।” হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করে পর্তুগালের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে গড়েছেন একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড।
প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে না পারায় রোনালদোকে ঘিরে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছিল। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা এখনও পর্তুগালের জন্য কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেই সব সমালোচনার জবাব দেন তিনি।
ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন Cristiano Ronaldo। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি।
এরপর ৩৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে আরও একটি রেকর্ড নিজের করে নেন রোনালদো। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে এক ম্যাচে জোড়া গোল করা ফুটবলারের রেকর্ড এখন তার দখলে।
এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও ভেঙেছেন তিনি। এতদিন ৯ গোল নিয়ে শীর্ষে ছিলেন কিংবদন্তি Eusébio। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর ২৪ ম্যাচে রোনালদোর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ১৪৫, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে স্বীকৃত প্রতিযোগিতায় তার মোট গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ৯৭৫-এ।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স শুধু পর্তুগালকে গুরুত্বপূর্ণ জয়ই এনে দেয়নি, বরং দেখিয়ে দিয়েছে যে বয়স বাড়লেও রোনালদোর গোল করার ক্ষুধা ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা এখনও অটুট। সমালোচনার জবাব তিনি আবারও দিয়েছেন নিজের সবচেয়ে পরিচিত উপায়ে—গোল করে।
পাঠকের মন্তব্য