![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ধোলাইখাল জলাধার সংস্কার প্রকল্পে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি পাবলিক টয়লেটের একটি বর্তমানে মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত টয়লেটটির বাইরে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানার ঝুলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধোলাইখাল জলাধারকে আধুনিক নগর বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরিকল্পনায় ছিল হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক, সবুজায়ন, উন্মুক্ত মঞ্চ, শিশুদের খেলার স্থান, ঝরনা এবং খাবারের ব্যবস্থা। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও প্রকল্পের অনেক কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে।
সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ নাজিম এ বিষয়ে বলেন, “এটি আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলত। বর্তমানে আমাদের নিজস্ব কোনো কার্যালয় না থাকায় দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা এখানে অবস্থান করছি।”
এদিকে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারু এন্টারপ্রাইজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান জানান, টয়লেট ভবনের মূল অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও ভেতরের ফিনিশিং কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। কারণ ভবনটি বর্তমানে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিষয়টি লিখিতভাবে ডিএসসিসিকে জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টয়লেট ভবনের বাইরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানার টানানো রয়েছে। ভবনের ভেতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পোস্টার ও নির্বাচনী ব্যানারও দেখা গেছে। এর ফলে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত কাগজে-কলমে ৮১ দশমিক ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে জলাধারের বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। প্রধান ফটক, সড়ক, বেঞ্চ স্থাপন এবং সবুজায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, ধোলাইখাল জলাধারকে পুরান ঢাকার ‘ফুসফুস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একসময় এটি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পড়লেও আধুনিকায়নের মাধ্যমে এলাকাবাসীর জন্য একটি উন্মুক্ত ও পরিবেশবান্ধব স্থান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্পের বিভিন্ন জটিলতা ও দখলদারিত্বের কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পাঠকের মন্তব্য