![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সংক্রান্ত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সীমান্ত সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তি পর্যালোচনা করে সেগুলোর মধ্যে বিতর্কিত চুক্তিগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় সেই উদ্যোগ কার্যত থমকে গেছে।
এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। চুক্তিটি বহাল রাখা হবে, নাকি বাতিল করা হবে—তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে ভারত। অবশিষ্ট এলাকাগুলোতেও বিভিন্ন সময়ে বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে বিএসএফের উত্তেজনা তৈরি হয়।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সীমান্ত নির্দেশিকা-১৯৭৫ অনুযায়ী, শূন্যরেখার ১৫০ গজের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক বা অবকাঠামোগত কাজের আগে উভয় দেশের সম্মতি নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে অতীতে হওয়া সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশের দাবি, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো চুক্তি থাকলে তা প্রকাশ করে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীমান্তসংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, জনগণের স্বার্থে চুক্তিগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং প্রয়োজন হলে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিতর্কিত চুক্তিটির পরিণতি কী হবে।
পাঠকের মন্তব্য