![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র আবদুস সাদেক আর নেই। শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ও সংগঠকের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে দেশের ক্রীড়া মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘আই’ ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।
আবদুস সাদেক দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বড় ভাই। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইশতিয়াক সাদেক ক্রীড়াভিত্তিক স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘টি স্পোর্টস’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহানও ছিলেন ব্রিটিশ আমলের এক খ্যাতনামা সাঁতারু।
আবদুস সাদেক ছিলেন স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব। হকি, ফুটবল ও ক্রিকেটে তাঁর সমান পারদর্শিতা ছিল। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের ফুটবল ও হকি—উভয় দলেরই প্রথম অধিনায়ক হওয়ার অনন্য গৌরব রয়েছে তাঁর। ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে তিনি ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৬৯ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে ইউরোপ সফর করেন। সেখানে জার্মানি, ইতালি ও ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা দলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ হকি দলের প্রথম অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসেও তিনি দল পরিচালনা করেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি কোচ হিসেবেও সফল হন। ১৯৭৭ সালে তাঁর অধীনেই আবাহনী ঘরোয়া ফুটবল লিগে প্রথমবার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। পরবর্তীতে সংগঠক হিসেবে ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর একক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে জাপানের পরিবর্তে ঢাকা দ্বিতীয় এশিয়া কাপ হকির ভেন্যু নির্বাচিত হয়। তাঁর এই প্রয়াণ দেশের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সৃষ্টি করল। দূরদর্শী এই সংগঠকের অবদান দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পাঠকের মন্তব্য