![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বহুল আলোচিত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শুধু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং একটি আত্মনির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু এবং কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কৃষক শুধুই উৎপাদক নন, বরং একজন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হবেন।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরকারের কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি সেবা ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সরকারের সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, কৃষককে শক্তিশালী না করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তাই সরকার কৃষকদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করছে।
কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া কৃষকদের জন্য ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের কৃষি খাতকে টেকসই করতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং তথ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাত আরও আধুনিক হবে এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রযুক্তি, তথ্য ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়বে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আরও শক্তিশালী হবে।”
তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকারের ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের একটি অংশ।