![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে স্মরণীয় সূচনা করেছে ইউরোপের শক্তিশালী দল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তারা নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলের সুবাদে এশিয়ার প্রতিনিধি ইরাককে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে নরওয়েজিয়ানরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই ছিল তুমুল উত্তেজনা। ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই ইরাক আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক ও লম্বা পাসের মাধ্যমে নরওয়ের রক্ষণভাগকে চাপে রাখার চেষ্টা চালায় মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। তবে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে ধীরস্থির ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় নরওয়ে। ডেভিড মোলার উলফের নিখুঁত ক্রস থেকে স্লাইডিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি।
তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি ইরাক। ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে আলি জাসিমের দুর্দান্ত ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করেন আইমেন হুসেইন। তার গোলে সমতায় ফিরে আসে ইরাক এবং ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়।
কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইরাকের একটি ভুলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৪৩তম মিনিটে গোলরক্ষক জালাল হাসান ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে নিতে দেরি করলে সুযোগটি লুফে নেন আর্লিং হলান্ড। বল কেড়ে নিয়ে সহজেই গোল করে নরওয়েকে আবারও এগিয়ে দেন তিনি। ফলে ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়েই বিরতিতে যায় নরওয়ে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইরাক সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। আইমেন হুসেইনের জোরালো শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পেনাল্টির আবেদন উঠলেও রিপ্লেতে দেখা যায় বল ডিফেন্ডারের হাতে নয়, হাঁটুতে লেগেছিল। ফলে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে নরওয়ে। হলান্ডের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে ইরাকের রক্ষণভাগকে বিপর্যস্ত করে তোলে তারা। শেষ পর্যন্ত আরও দুটি গোল যোগ করে ৪-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করে দাপুটে জয়।
এই ম্যাচে আর্লিং হলান্ড শুধু জোড়া গোলই করেননি, পুরো ম্যাচজুড়ে ছিলেন নরওয়ের আক্রমণের প্রাণভোমরা। তার গতি, শক্তি এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতা আবারও ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের জার্সিতে খেলেছিলেন আর্লিং হলান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হলান্ড। তিন দশক পর একই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপে নরওয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন তার ছেলে আর্লিং হলান্ড। ফলে এই জয় নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে আরও আবেগঘন হয়ে থাকবে।
এই ফলাফলের মাধ্যমে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে পরাজয়ের স্বাদ পেল ইরাক। অন্যদিকে, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে বড় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল নরওয়ে। এখন নরওয়ের সমর্থকদের স্বপ্ন, হলান্ডের নেতৃত্বে দলটি আরও দূর পর্যন্ত এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়বে।
পাঠকের মন্তব্য