![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন, ফিচ রেটিংসের পূর্বাভাস মাত্র ৩.৫ শতাংশ
বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিংস বলছে, সরকার যেখানে আগামী অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির আশা করছে, সেখানে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে সংস্থাটি বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক পর্যালোচনা করে এই পূর্বাভাস দিয়েছে। ফিচের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাত এখনও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না, নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতি রয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত আছে। এসব কারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ফিচ রেটিংস বিশেষভাবে সরকারের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নতুন বাজেটে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০.২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিনের কর ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাস্তবায়ন সংকটের কারণে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটে ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ সরকারের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন হলেও, প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহ করতে না পারলে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বড় বরাদ্দ দেওয়ার ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি হবে।
তবে ফিচ এটিও উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে বাজেটের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয় না। ফলে পরিকল্পিত ব্যয়ের একটি অংশ বাস্তবে খরচ না হলে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। সংস্থাটি আগামী অর্থবছরে জিডিপির ৩.৬ শতাংশ সমপরিমাণ বাজেট ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে।
এদিকে গ্যাস অনুসন্ধান, বিদ্যুৎ উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের মতো উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছে ফিচ। তাদের মতে, এসব খাতে কার্যকর বাস্তবায়ন হলে মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানমুখী শিল্পায়নের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।