![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। তবে আয়োজক না হয়েও এবারের বিশ্বকাপ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আরব দেশগুলোর জন্য। কারণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রেকর্ডসংখ্যক আটটি আরব দেশ বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের পরিচিতি, পর্যটন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং পর্যটন খাতের জন্যও অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক দর্শক ও গণমাধ্যমের নজর এখন আরব দেশগুলোর দিকে থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপে সৌদি আরব, কাতার, মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিশর, আলজেরিয়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে জর্ডান এবং চার দশক পর বিশ্বকাপে ফিরেছে ইরাক। এই ব্যাপক উপস্থিতি আরব বিশ্বের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বকাপে একটি দেশের ভালো পারফরম্যান্স সরাসরি পর্যটন খাতকে প্রভাবিত করতে পারে। এর বাস্তব উদাহরণ মরক্কো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর পর দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশ্বব্যাপী প্রচারণা ও ইতিবাচক পরিচিতি মরক্কোকে নতুন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারও যদি কোনো আরব দেশ নকআউট পর্ব বা তারও পরের ধাপে যেতে পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিমান পরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, খুচরা ব্যবসা এবং পর্যটন শিল্প ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। বিশ্বকাপের মাধ্যমে সৃষ্ট ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং বহু বছর ধরে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ইতোমধ্যে পর্যটন ও ক্রীড়া বিনিয়োগকে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মরক্কো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে ব্যবহার করছে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও পর্যটক আকর্ষণের হাতিয়ার হিসেবে। বিশ্বকাপ ২০২৬ তাদের সেই পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক সুবিধা বাস্তব হলেও তা সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রভাব ফেলে না। তাৎক্ষণিক লাভের বড় অংশ সাধারণত পর্যটন, আতিথেয়তা ও সেবাখাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবুও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এই টুর্নামেন্ট আরব দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠেছে।
![]()
সূত্র: গালফ নিউজ
পাঠকের মন্তব্য