![]()
পবিত্র Eid al-Adha সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন খাতে একসঙ্গে ব্যস্ততা, ভোগান্তি ও প্রস্তুতির চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজধানী Dhaka ছাড়ছেন লাখো মানুষ, অন্যদিকে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ, ভারী বৃষ্টি, যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে একযোগে ছুটি ঘোষণার পর মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে খোলা ট্রাক ও পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
রেলপথেও একই চিত্র। Kamalapur Railway Station-এ উপচে পড়া ভিড়, ট্রেনের ছাদে যাত্রা এবং শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যেই মানুষ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদের বিশেষ ট্রেনসহ বুধবার মোট ৬৭টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে।
এদিকে টানা বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। New Market, Mirpur, Moghbazar ও পুরান ঢাকাসহ বহু এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ঈদ কেনাকাটা, পশুর হাট ও বাড়ি ফেরা মানুষদের ভোগান্তি বেড়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, খাল দখল ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থাই জলাবদ্ধতার মূল কারণ।
ফাঁকা হতে থাকা রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে Dhaka Metropolitan Police। আবাসিক এলাকায় বাড়তি টহল, মোবাইল পেট্রোলিং এবং সন্দেহভাজন চোরচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯-এ যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে মগবাজারের Ad-din Medical College Hospital-এ একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে “দুর্ঘটনাজনিত” বললেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী Sardar Shakhawat Hossain Bokul বলেছেন, অবহেলার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দেশে হাম পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে এক হাজারের বেশি শিশুর শরীরে হাম ও উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬০-এ।
ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে Dhaka South City Corporation। সেখানে রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin ও প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিমকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও শান্তির বার্তা দিয়েছেন। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed জানিয়েছেন, ঈদের আগে ও পরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না।
নৌপথেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নৌ প্রতিমন্ত্রী Rajib Ahsan বলেছেন, ঈদের ফিরতি যাত্রা নিরাপদ রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং দক্ষিণাঞ্চলের নৌঘাটগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম কাজ করছে।
পাঠকের মন্তব্য