![]()
University of South Florida-এর দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যার মামলায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহ আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। সোমবার আদালতে সশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার পক্ষে একটি লিখিত ‘নট গিল্টি প্লি’ জমা দেওয়া হয়।
Hillsborough County স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হবে। আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলার জুরি ট্রায়াল শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ নভেম্বর।
চলতি মাসের শুরুতে এক গ্র্যান্ড জুরি শুনানিতে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়াহর বিরুদ্ধে সাতটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রসহ প্রথম ডিগ্রির পরিকল্পিত হত্যা, আলামত নষ্ট করা, অবৈধভাবে মরদেহ সরানো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মৃত্যুর তথ্য গোপন করার অভিযোগ।
ফ্লোরিডার আইনে প্রথম ডিগ্রির হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে গ্র্যান্ড জুরির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রয়োজন হয়। আদালতের অনলাইন নথি অনুযায়ী, আলামত নষ্টের অভিযোগ ছাড়া বাকি প্রায় সব অভিযোগেই অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
মামলার তদন্ত নথি অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। তারা দু’জনেই বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। লিমন পড়ছিলেন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে এবং নাহিদা পড়ছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহ হত্যাকাণ্ডের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ChatGPT ব্যবহার করে মরদেহ গুম করার উপায় সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি কালো রঙের বড় আবর্জনার ব্যাগসহ কিছু সন্দেহজনক জিনিসপত্রও কিনেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবুঘারবিয়াহ দুই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে আলামত নষ্ট করেন এবং পরে মরদেহ দুটি ভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
গত এপ্রিলের শেষ দিকে জামিল লিমনের মরদেহ Howard Frankland Bridge এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। কয়েক দিন পর নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া যায় St. Petersburg-এর কাছে পানিতে।
এই বহুল আলোচিত মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে Suzy Lopez নিজেই আদালতে সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করবেন, যা মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় তুলনামূলক বিরল ঘটনা।
পাঠকের মন্তব্য