![]()
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তবে তেহরান দাবি করেছে, তাদের অবস্থান বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক। একইসঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে বলে কূটনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu বলেছেন, ইরান থেকে ইউরেনিয়ামের মজুদ পুরোপুরি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের ইতি টানা সম্ভব নয়। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আবারও ইরানে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৪০ দিনের মাথায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়। পরবর্তীতে ইসলামাবাদে দীর্ঘ বৈঠক হলেও স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। এরপর থেকে চিঠি চালাচালি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। একই সময়ে অবরোধ, পাল্টাপাল্টি হামলা ও জাহাজ আটকের ঘটনাও ঘটে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের প্রতিক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়, তাই চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি মানবে না, বরং যুদ্ধ বন্ধের আগেই মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে সংঘাত থামানো এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া ইরান জব্দকৃত সম্পদ ফেরত ও যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তুলেছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলার জন্য তারা পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব জরুরি বৈঠকও করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। তবে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপে যুক্ত হলে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে তেহরান। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উচ্চমাত্রার উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
পাঠকের মন্তব্য