![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর অবরোধ কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। গতকাল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। একদিনেই দাম ১৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট তেল ১২০ ডলারের ওপরে উঠল, তখন এটি সর্বোচ্চ প্রায় ১৩৯ ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমান দামের উল্লম্ফনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ইরানের ওপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিকে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। একই সময়ে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
অন্যদিকে ইসলামাবাদে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনাও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি, ফলে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রয়োজনে “মাসের পর মাস অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার” বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং তিনি মনে করেন বোমাবর্ষণের চেয়ে অর্থনৈতিক অবরোধই বেশি কার্যকর চাপ তৈরি করছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় অচল থাকলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংকট ছয় মাস স্থায়ী হলে তেলের দাম ১৯০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দার ঝুঁকি বাড়াবে।
পাঠকের মন্তব্য