![]()
দেশের বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে আগামী ২৮ এপ্রিল ফুয়েল লোডিং শুরু হতে যাচ্ছে। সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনোয়ার হোসেন, যিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-এর সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ফুয়েল লোডিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে এবং সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন মাস সময় লাগবে।
⚡ ধাপে ধাপে বাড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০-১৫ শতাংশ হারে উৎপাদন বাড়তে থাকবে। পূর্ণ সক্ষমতা—১,২০০ মেগাওয়াট—পেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস।
এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় ইউনিটেও ফুয়েল লোডিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
⏳ কেন পিছিয়েছে সময়সূচি
রূপপুর প্রকল্পের কাজ কয়েক দফায় বিলম্বিত হয়েছে। শুরুতে ২০২১ সালেই উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-এর প্রভাব প্রকল্পের অগ্রগতিকে ধীর করে দেয়।
এছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কমিশনিং লাইসেন্স পেতে দেরি হওয়ায় ফুয়েল লোডিংয়ের সময়সূচিও পিছিয়ে যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।
???? ব্যয় বৃদ্ধি ও মেয়াদ সম্প্রসারণ
২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় এখন ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।
ডলার সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
???? মানবিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপট
বর্তমান জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের প্রেক্ষাপটে রূপপুর প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়া দেশের জন্য একটি বড় স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করেই ধাপে ধাপে উৎপাদনে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাঠকের মন্তব্য