![]()
১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান অবশেষে নির্বাচনে বড় পরাজয়ের মুখে পড়েছেন। নবীন মধ্য-ডানপন্থী দল টিসজার নেতা পিটার ম্যাজার সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নতুন সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেছেন।
প্রায় সব ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে টিসজা ১৩৮টি আসন পেতে যাচ্ছে—যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতারও বেশি। ফলে অরবানের সময়কালে করা সাংবিধানিক পরিবর্তন বাতিল এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজধানী বুদাপেস্ট-এর দানিউব নদীর তীরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ম্যাজার বলেন, “আমরা আমাদের দেশ ফিরে পেয়েছি।”
এই নির্বাচনকে অনেক বিশ্লেষক হাঙ্গেরির জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন। রেকর্ড ভোটার উপস্থিতিও সেই বার্তাই দেয়।
অরবানের শাসনামলে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্নতা এবং সম্পদ বৈষম্য বৃদ্ধির কারণে জনগণের অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এর ফলেই তার জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।
???? আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই ফলাফল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ম্যাজারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন
- ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, “হাঙ্গেরি ইউরোপকে বেছে নিয়েছে”
- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে
- সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মিত্র হিসেবেও পরিচিত ছিলেন অরবান
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে ইউক্রেনের জন্য আটকে থাকা প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা অনুমোদনের পথ খুলে যেতে পারে।
⚖️ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ভিক্টর অরবান দীর্ঘদিন ধরে ‘ইলিবারেল গণতন্ত্র’ মডেলের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার ব্রাসেলস-বিরোধী অবস্থান হাঙ্গেরিকে ইউরোপীয় মূলধারা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে পিটার ম্যাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পাঠকের মন্তব্য