![]()
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র।
রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গণভোটের রায় না মানলে সেদিন থেকেই এই সরকারকে অবৈধ সরকার বলা শুরু করব। এর জন্য আমরা সময় নেব না।”
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আপনারা প্রায়ই বলেন, আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাসে এর নজির রয়েছে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান-এর অর্জন রক্ষা করা না গেলে পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা না হলে ভবিষ্যতে আবারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের নির্বাহী বিভাগ অতিরিক্ত ক্ষমতা ধরে রাখছে। এতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যেকোনো সময় অপসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সংবিধানের পরিপন্থী।
ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, অতীতে বহু সংস্থার হাতে এ ক্ষমতা থাকলেও অন্তর্বর্তী সময়ে তা সীমিত করা হয়েছিল এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে আবারও একাধিক সংস্থার হাতে এ ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘স্বৈরাচারের লক্ষণ’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় ফ্যাসিবাদ ছিল এবং এখনকার সরকারেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
গণভোট প্রসঙ্গে জিয়াউর রহমান-এর সময়ের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, “তখন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্দেশ্যে গণভোট করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের গণভোট হয়েছে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে, যেখানে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে।”
আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার সহযোগিতার সুযোগ না দেওয়ায় বিরোধী জোট রাজপথে নামতে বাধ্য হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির অন্যান্য নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার উপস্থিত ছিলেন।