![]()
তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সরকার নতুন করে অধ্যাদেশ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে ই-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা একাধিক অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশোধিত খসড়া প্রস্তুত করছে, যা শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS)-এর ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার বিধানটিও বাদ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা World Health Organization-এর মতে, ই-সিগারেট থেকে নির্গত বাষ্পে নিকোটিনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ব্যবহারকারী এবং আশপাশের মানুষ উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
এ অবস্থায় তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি’ হিসেবে দেখছে। Campaign for Tobacco-Free Kids-এর বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার আতাউর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
তিনি জানান, বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ ইতোমধ্যে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশেও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা উচিত।
তামাকজাত পণ্য প্রদর্শনের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, দেশে ৮৮ শতাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে শিশুদের চোখের উচ্চতায় সিগারেট রাখা হয় এবং ৬৬ শতাংশ দোকানে ক্যান্ডি বা মুখরোচক খাবারের পাশে তামাকজাত পণ্য রাখা হয়, যা শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করে। তাই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এ সংশোধন এনে ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। একইসঙ্গে বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত পণ্য আড়ালে রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছিল।
তবে নতুন প্রস্তাবিত সংশোধনের ফলে এসব বিধান শিথিল হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।